1. marufhassain@gmail.com : admin :

September 24, 2021, 10:57 am

শিরোনামঃ
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই কৃষিতে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে-কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে বেড়েছে পাট চাষ ঝালকাঠিতে কাজি পেয়ারার বাম্পার ফলন এফবিসিসিআইয়ের ম্যাধ্যমে আপনাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো জানাবেন। আমরা সেগুলো সুপারিশ করব।’-কৃষিমন্ত্রী পদ্মার চরে কলা চাষে চমকে দিলেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল: কৃষিমন্ত্রী কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করছে সরকার-কৃষিমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার ৯৮ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের খাদ্যচক্রে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব: কৃষিমন্ত্রী বাড়ছে ছাদ বাগান ও ছাদ কৃষির আগ্রহ
রাউজানে ৯৫০হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজির আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি

রাউজানে ৯৫০হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজির আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি

চট্টগ্রামে রাউজানে এবার ৯৫০ হেক্টর জমিতে মৌসুমী সবজির আবাদ হয়েছে। রাউজানে কাসখালী খালের দুপাড়ের এবার ব্যাপক কৃষি জমিতে মৌসুমী সবজির ফলন হয়। এই এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষক এখন মাঠে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে মৌসুমী সবজি উৎপাদনে। অনেকেই আগাম উৎপাদন করে এখন ক্ষেত থেকে সবজি উঠিয়ে বাজারে নিচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছে সবজি উৎপাদনে তাদের জন্য এখন আর্শিবাদ হয়েছে কাসখালী খালের পানি। গত বছর এই খালটি খনন করে দেয়া হলে স্থানীয়রা কৃষকরা এখানে দ্বিগুন উৎসাহে এবার সবজি আবাদে মনোযোগি হয়ে উঠেছে। 

স্থানীয় কৃষিজীবি আবদুস শুক্কুর জানায়, এবার পানির প্রবাহ পেয়ে এক একর জমিতে তিনি বিভিন্ন জাতের সবজি ক্ষেত করেছেন। তিনি উৎপাদন করছেন ফুল, বাঁধা কপি, টমোটো, লাউ, আলু, মরিচ। অল্প কিছুদিন পর বীজ বুনবেন বাদামের। তার উৎপাদিত ফুল, বাঁধা কপি, টমোটো, লাউ এখন বাজারে যাওয়া শুরু করেছে। মৌসুমী এই সবজি উৎপাদনে এই পর্যন্ত তার দেড় লাখ টাকার খরচ হয়েছে বলে জানিয়ে বলেন আমি আশাবাদী এসব ক্ষেত হতে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে আরো দেড় লাখ টাকা।  কৃষক শুক্কুরের কথায় বাপ-দাদার দেখানো পথে তিনি চাষাবাদ নিয়ে আছেন। তিনি একাজে লোকসান দেননি। 

তিনি জানান এখানে উৎপাদিত সব সবজি কিটনাশকমুক্ত। ক্ষেতে দেয়া হয় কোনো ধরণের রাসায়নিক কিটনাশক। পোকা মাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হয় এখানকার কৃষিজীবিরা ব্যবহার করেন বিভিন্ন রকম ফাঁদ। এই কাজে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজন। তারা কৃষকদের সবজি উৎপাদনে উৎসাহ দিতে প্রতিনিয়ত এখানে আসা যাওয়া করেন। জোগিয়ে যাচ্ছেন।

খাসখালী খাল এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, এখানকার কৃষক কৃষাণীরা মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ক্ষেত থেকে সবজি উঠিয়ে বাজারের পাঠানো ও পরিচর্যার কাজে। এখানে কাজে নিয়োজিতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বিলে শতাধিক কৃষক চলতি মৌসুমে শীতের সবজি ফলাচ্ছে। দেখা গেছে কৃষকরা খাসখালী খালে পানির পাম্প বসিয়ে লম্বা পাইপ টেনে নিজ নিজ কৃষি ক্ষেতে পানি নিচ্ছে। এই বিলে রয়েছে  কৃষি বিভাগের বিভিন্ন জাতের সবজির বেশ কিছু প্রদর্শনী ক্ষেত। প্রতিটি ক্ষেতে টাংঙ্গানো রয়েছে পোকা দমনের ফাঁদ। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলা জুড়ে ৯৫০হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ক্ষেতের চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, বেগুন, মুলা, আলু, বরবটি, মরিচ, সীম, লাল শাক, পালং শাক, খিরা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ভূট্টা, সরিষা, টমেটো, বাদাম, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি। সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, ২২৫ হেক্টর জমিতে আলু, ২২০ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটো, ১৬৫ হেক্টর জমিতে সীম, ৮০-১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা ও  ৮০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৮৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাধাকপির চাষবাদ করা হয়েছে। 

বর্তমান বাজার মূল্যে ফুলকপি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, বাধাকপি প্রতিকেজি ২০ টাকা, নতুন আলু প্রতি কেজি ২৫টাকা, লাউ আকার ভেদে ৫০-৮০টাকা, বেগুন, ২০টাকা। রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল শুক্কুর জানান, ১৬০ শতক বর্গা জমিতে ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, টমেটো, আলু, মরিচ চাষ করেছি। প্রতি ৪০ শতকে ৮০ আড়ি করে বর্গা ধান দিতে হয়। শীতকালীন সবজি চাষে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। দাম ভালো থাকায় দ্বিগুন লাভ হবে বলে আশাবাদি তিনি। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামার্শ মতে ফেরোমন ফাদ ও হলুদ ফাদ ব্যবহার করেছি। ফেরোমন পদ্ধতি আগে ব্যবহার করলেও হদুল ফাদ পরিক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সফল হয়েছি। 

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সুশিল বলেন, রাউজানে ৮ হেক্টর জমিতে হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে। হলুদ রংয়ে আকৃষ্ট হয়ে পোকাগুলো বসলেই আটকে যায়। পোকা দমনে হলুদ ফাঁদ (নতুন পদ্ধতি) পরিক্ষামূলকভাবে প্রথমবার ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এই উপজেলার মাটি ও পরিবেশ কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে।

রাউজানের বিভিন্ন এলকায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সবজি ক্ষেতের পোকা-মাকড় দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্সপেরোমন ও হলুদ ফাঁদ (নতুন পদ্ধতি) পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য দেয়া হয়েছে। তারা কিটনাশক ব্যবহার না করে সবজি উৎপাদন করতে পারায় এখানকার কৃষক এবার সবজি ক্ষেতে দিকে বেশি ঝুঁকেছে। এলাকার জনসাধারণও হাটবাজার থেকে  বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব সবজি কিনতে পাচ্ছে।

সূত্রঃ আমাদের সময় ডট কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY Md. Maruf Hossain