1. marufhassain@gmail.com : admin :

September 22, 2021, 9:31 am

শিরোনামঃ
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই কৃষিতে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে-কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে বেড়েছে পাট চাষ ঝালকাঠিতে কাজি পেয়ারার বাম্পার ফলন এফবিসিসিআইয়ের ম্যাধ্যমে আপনাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো জানাবেন। আমরা সেগুলো সুপারিশ করব।’-কৃষিমন্ত্রী পদ্মার চরে কলা চাষে চমকে দিলেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল: কৃষিমন্ত্রী কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করছে সরকার-কৃষিমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার ৯৮ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের খাদ্যচক্রে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব: কৃষিমন্ত্রী বাড়ছে ছাদ বাগান ও ছাদ কৃষির আগ্রহ
দিনাজপুরে যে কারণে লিচুর ফলন বেশি হয়

দিনাজপুরে যে কারণে লিচুর ফলন বেশি হয়

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা হিসেবে সুপরিচিত জেলা দিনাজপুর। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ দিনাজপুর জেলাটি রংপুর শহর থেকে প্রায় ৭৮ কিমি উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৩৮ কিমি। বাসমতী ও কাটারিভোগ চাল, সুমিষ্ট ও সুস্বাদু আম ও লিচুর জন্য বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি জেলা। দেশের সব জেলাতেই লিচু চাষ হয়, তবে তুলনামূলকভাবে দিনাজপুরে বেশি পরিমাণে লিচু উৎপাদিত হয়। বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হলেও মাদ্রাজি, বোম্বাই, বেদানা, চায়না-৩, কাঁঠালি বোম্বাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং বর্তমানে বেদানা লিচু বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

দিনাজপুর লিচু চাষের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম অনুকূল অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত। কেননা দেশের এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটির ধরন লিচু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। প্রধানত তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত পরিমিত পরিমাণে হওয়ায় ব্যাপক পরিমাণে লিচুর ফলন হয়। এই জেলা সমুদ্র উপকূল থেকে সর্বাধিক উত্তরে অবস্থিত। ফলে গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ৯৯০ ফারেনহাইট) এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৫০ সেমি ও বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭০-৮৫% লিচু চাষের জন্য উপযোগী, যা দিনাজপুর অঞ্চলে প্রতীয়মান। কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিপাত লিচু চাষের প্রয়োজনীয় পানি সরবারাহ করে। যেহেতু লিচু চাষের জন্যে অপেক্ষাকৃত কম পানি প্রয়োজন তাই কৃত্রিম সেচের প্রয়োজন হয় না।

আবার ভূপ্রকৃতির ধরন অনুযায়ী দিনাজপুর হচ্ছে বরেন্দ্রভূমি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠতল (ঝবধ ষবাবষ) হতে এর উচ্চতা ৩৭ মিটার। এখানকার প্রচুর জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ নিষ্কাশিত গভীর উর্বর দো-আঁশ মাটি লিচু চাষের জন্য সর্বোত্তম। কেননা এ ধরনের মাটিতে জন্মানো গাছের শিকড়ে মাইক্রোরাইজা নামক এক ধরনের ছত্রাক উৎপন্ন হয়। এ ছত্রাকগুলো মিথোজীবিতার মাধ্যমে গাছে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে থাকে।  এ ধরনের মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা আপেক্ষিকভাবে কম হওয়ায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকে না। এ অঞ্চলের মাটির ধরন বেলে দো-আঁশ যা লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণত মাটির পিএইচ মান ৬.৫-৬.৮ হলে লিচু চাষ উপযোগী হয়। দিনাজপুরের মাটি কিছুটা অম্লীয় যা লিচু চাষের জন্যে অনুকূল। এ ছাড়া এই মাটি  উচ্চ জৈব উপাদান ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ যা সুমিষ্ট ও সর্বাধিক ফলনের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

এ ছাড়া লিচু গাছের অধিক চারা উৎপাদনের জন্য সাধারনত বিভিন্ন ধরনের কলম  তুলনামূলক সহজ ও দিনাজপুরের আবহাওয়া উপযোগী। সাধারণত ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কম সময়ে অধিক ফলনের জন্য শাখা কলম, গুটি কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা হয়। এর ফলে লিচু পুষ্টি উপাদান ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে। তবে বীজ মাধ্যমেও চারা উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু সময়সাপেক্ষ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়িক পরিপ্রেক্ষিতে এটা অনুপযোগী। এ ছাড়া বাডিং, গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমেও চারা উৎপাদন করা হয়। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লিচু বাজারজাতকরণ ও নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ, সঠিক মূল্য নিশ্চিত এসব বিষয় তত্ত্বাবধান করেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাধারণ মানুষ লিচু চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমান দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে ব্যবসায়িকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। এর ফলে খাদ্য চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব হ্রাস ও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই মৌসুমি ফলের চাষ।

তথ্যসুত্রঃ বাংলাদেশের খবর

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Design & Developed BY Md. Maruf Hossain